অনূদিত কবিতাগুলো ইতিহাসের একটি ঘটনার অভিঘাতে সৃষ্টি হয়েছিল। ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই একুয়াদরে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছি যা প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল ৬৭০ জনের, ১২ জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, আহত হয়েছিলেন ৬২৭৪ জন। জীবনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও এই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একুয়াদরের সাটি প্রদেশ। ভবন ও সড়কগুলো দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল। দেশব্যাপী এই ধ্বসংযজ্ঞ আর বহু মানুষের প্রয়াণ সংবেদনশীল যে-কাউকেই বিচলিত করবে। করেছেও। আর কবি লেখকরা বিচলিত না হয়ে পারেননি। আউগুস্তো রদ্রিগেছের এই কবিতাগুলোতে সেই প্রাকৃতিক দুর্ঘটনার প্রতি রয়েছে কাব্যোত্তীর্ণ সাড়া। কবিতাগুলো ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেসের একটি অনলাইন সাময়িকীতে। পরের বছর এই কবিতাগুলোসহ আরও বেশ কিছু কবিতা নিয়ে Terremoto শিরোনামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। মূল লেখকের অনুমতি নিয়ে কবিতাগুলো মূল থেকে তর্জমা করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য-বিশেষজ্ঞ কবি রাজু আলাউদ্দিন ।
মৃত্যু আমার জননী
কী হবে দুচোখ দিয়ে
যদি তা কেবলই দুই শূণ্য কোটর
দেখে না যা কোনো ছবি
কিংবা যা ধরে না আগুন?
কী হবে আমার দুই কর্ণযুগলের
যা থেকে রক্তধারা উগগিরিত হয়
কিন্তু যা শোনে না
আহতজনের যন্ত্রনা?
কী কাজে লাগবে তবে আমার এই মুখ
যদি তার না থাকে রসনা
আর যদি না খায় খাবার?
কী হবে আমার এই দেখখানা দিয়ে
যদি তা নির্বাসনে পাঠায় পাথর আর যন্ত্রনাগুলো?
পৃথিবীর কণাগুলো
আমার বিধ্বস্ত দুই বাহুতে শায়িত
মৃত্যু আমার জননী।
ধুলিমেঘ
ইটসুরকির মাঝে
আগুনের জয়ী হতে নেই
এখনও রক্তধারা প্রবাহিত মুখে
দুই হাতে আর দুই চোখের ভেতরে
নজরে পরার মতো এ তেমন বেশি কিছু নয়
ধুলিমেঘ সব কিছু ঢেকে দিয়ে যায়
দমকলবাহিনী ছিটায় জলের ধারা
তাদের জলের পাইপ থেকে
জীবন এক পরাজিত ইশ্বর
ইটসুরকির গান
ভবনগুলো
সমাহিত করেছে মানুষ
তাদের ভাঙা পাজরের মাঝে
দূর থেকে শুনা যায়
ইটসুরকির গান
স্বীকারোক্তি
বেঁচে যাওয়া একজনের স্বীকারোক্তি:
নিজেকে বাঁচাতে
করতে হয়েছে নিজের মূত্র পান
ও ছিল আমার পবিত্র জল
আমার নিজের যৌনতাজাত
নিজেকে তৃপ্ত করতে গিয়ে
মরতে বসেছি প্রায়।
চুনের অভিভাবক
দেখছি মৃত্যু শুধু
সারি সারি আরও মৃতদেহ
খননকারী বড় খানাখন্দগুলো
খুড়ে নেমে যায় তারা দেহ তল্লাশে
আমরা কি ফিরে যাবো সেই নাৎসী যুগে?
তারাই অভিভাবক
চুন আর ইটসুরকির।
টনসিল
আমার গলার মধ্যে
আছে এক বিধ্বস্ত মানুষ
আমার টনসিলের মাঝে
আমি তার হাটাচলা শুনি
মানুষটি বিক্ষত আর ব্যথাতুর
আমাকে ব্যথিত করে ওর হাড়গোড়
ওর মৃত্যু আমাকে পোড়ায়।
বিস্ফোরক বোমা
একটি হোটেল বার-এ সুন্দরী
যে-মেয়েটি নৃত্য করে যেত
আজকে সে অন্তর্হিতা
তারা বলে দেহ তার উড়ে গেছে
কিংবা তা মাটির তলায় সমাহিত
তার জোড়া হাইহিলের
একটি ঘুমায় আজ আমার মুঠোয়
দেহ তার উড়ে গেছে
বিস্ফোরক বোমার মতন।
ভাষা
ইটসুরকির নিচে
আমার ভাষারা
সৃষ্টি করে ইট ও মাটির
অন্য এক নতুন ভাষা
আমার ভাষাটি এক
কালো প্রস্তর।
অনুপস্থিতি
মা আমার অনুপস্থিত
আমাকে না-দেখেই তাকায় সে নিজের ডেরায়
আমাকে সে অন্যদের কথা বলে
আমার অচেনা সব মানুষের কথা বলে
জানি তার জিভখানি শুকিয়ে গিয়েছে
আমাকে সে চেনে না, এমনকি শুনতেও পায় না আমাকে
আমি তার জীবনে এক প্রেতাত্মা এখন
অন্তেষ্টিক্রিয়া
তোমার অন্তেষ্টিতে কেঁদেছি আমি
আজও কেঁদে যাই।
তোমার উষ্ণ দুই স্তন মনে পরে খুব
যেখানে করেছি পান আমার জীবন
এ দুয়ের কোনটি যে মৃতদেহ
আমি তা জানি না
হলোগ্রাম
লুইস আলবের্তো ব্রাবোকে
আমার ভাষাটি
আর আমার নয়
আজ আমি পাথরের
এখন আমি কথা বলি মাটির ভাষায়
ধুলিমেঘপুঞ্জ
আমাকে জানায়
নতুন নতুন সব প্রতীকসমূহ
আমি আজ আমার নিজের
হলগ্রাম



0 Comments