ইরাকের সরকার-বিরোধী আন্দোলনে যোগদানকারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদীর হুমকিকে তোয়াক্কা না করে রাস্তায় নেমে এসেছেন দেশটির স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ছাত্রসমাজকে রুখতে সোমবার দেশটির বেশ কয়েকটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে টিয়ার গ্যাস হামলা চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। খবর রয়টার্সের।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে রবিবার আদেল আবদুল মাহদীর বিশেষ এক মুখপাত্র বলেছিলেন, যে বা যারাই কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করবে, তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

দেশের অর্থনৈতিক মন্দা নিরসনে ও সরকারের দূর্নীতি বন্ধের দাবিতে অক্টোবরের শুরুতে প্রথম আন্দোলনে নামে ইরাকের জনগণ, বিশেষ করে যুবসমাজ। এসময় সরকার পতনেরও ডাক দেয় তারা। আন্দোলনকারীদের দমনে কঠোর নীতি হাতে নেয় মাহদী সরকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুশোর বেশি আন্দোলনকারী নিহত হন সেসময়। এরপর দুই সপ্তাহ স্থগিত থাকার পর ফের শুক্রবার রাজধানী বাগদাদ ও আশেপাশের শহরে আন্দোলনে নামে ইরাকের যুবসমাজ। এসময় তাদের সাথে স্কুলের ছাত্ররাও যোগ দেন। রবিবার এসে রক্তক্ষয়ী রূপ ধারণ করে বিক্ষোভ। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তিনদিনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৬৩ জন। এরপরই স্কুল-ইউনিভার্সিটিগুলোতে আন্দোলন না ছাড়ানোর ব্যাপারে হুমকিমূলক বার্তা আসে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাগদাদের বেশ কয়েকটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছাত্র-ছাত্রীদের দিকে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল স্কুলছাত্রী ভয়ে দৌঁড়াচ্ছেন এবং চিৎকার করছেন। রাজধানী বাগদাদ ছাড়াও ইরাকের আরও ৫টি প্রদেশের শিক্ষার্থীরাও এদিন আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

আব্বাস আল হামজাওয়ি নামে একজন আর্কিওলজির ছাত্র বলেন, 'আজ আমরা নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছি, যে অধিকার ২০০৩ সালে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। সেসময় (২০০৩ সালে) আমেরিকার সরকার আমাদেরকে একদল চোরের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিল।'

তেলসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে ওপেকের পূর্ণ সদস্যপদ থাকা স্বত্তেও ইরাকের জনগণ অনেক বছর ধরে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছেন। দেশটিতে বর্তমানে তীব্র পানি ও বিদ্যুত সংকট বিরাজ করছে। একইসঙ্গে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসেবা থেকেও বঞ্চিত দেশটির জনগণ। বেকারত্বের হার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৩ সালে মার্কিন সরকার কর্তৃক ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকেই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশটি।